বাংলাদেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন ‘স্পেসএক্স’-এর ‘স্টারলিংক’। সম্প্রতি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) থেকে নিবন্ধন পাওয়ার পর দেশে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাণিজ্যিক সেবা শুরুর আগে বিটিআরসি’র এনজিএসও নীতিমালার আওতায় লাইসেন্স পেতে হবে স্টারলিংককে।
এদিকে, স্টারলিংকের সম্ভাব্য সহযোগী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিকমিউনিকেশন অবকাঠামো নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ফাইবার অ্যাট হোম’। গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন, ব্যান্ডউইথ, ট্রান্সমিশন, কানেক্টিভিটি এবং ডাটা সেন্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।
ফাইবার অ্যাট হোমের ভূমিকা
কালবেলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্টারলিংক গাজীপুর, যশোর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে চারটি গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এসব স্থাপনার জন্য ফাইবার অ্যাট হোম বিদ্যুৎ, জায়গা, এবং কানেক্টিভিটির মতো নানা সহায়তা দেবে। তাদের গাজীপুর হাইটেক পার্কের ডাটা সেন্টারও ব্যবহার করবে স্টারলিংক।
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মঈনুল হক সিদ্দিকী বলেন, “ইন্টারনেট সেবা পরিচালনার জন্য স্টারলিংক আমাদের কিছু অবকাঠামো ব্যবহার করবে বলে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।”
আলোচনা চলছে গোপনীয়তার ভিত্তিতে
স্টারলিংক বর্তমানে একাধিক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপনীয় চুক্তি (NDA) করে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এসব আলোচনার তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। ফলে প্রতিষ্ঠানটি কাদের সঙ্গে চুক্তি করছে বা কী ধরনের সহযোগিতা নিচ্ছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
কাদের জন্য স্টারলিংক
জুন বা জুলাইয়ের মধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে ইন্টারনেট সেবা চালুর পরিকল্পনা করছে স্টারলিংক। প্রাথমিকভাবে করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং প্রত্যন্ত এলাকার সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোকে টার্গেট করছে তারা। তবে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা আপাতত দেওয়া হবে না।
প্রযুক্তিগত কাঠামো ও বৈশ্বিক প্রক্রিয়া
স্টারলিংকের প্রতিটি গ্রাউন্ড স্টেশনে ৯টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যান্টেনা থাকবে, যা লো-আর্থ-অরবিট স্যাটেলাইট থেকে সংকেত গ্রহণ করে ডাটা সেন্টারে পাঠাবে। এরপর সেই ডাটা দ্রুতগতির অপটিক্যাল ফাইবার ও সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে যুক্ত হবে বৈশ্বিক ইন্টারনেট অবকাঠামোর সঙ্গে।
স্থানীয় আইএসপিগুলোর উদ্বেগ ও অবস্থান
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, “স্টারলিংকের মতো প্রযুক্তি আসা ভালো, তবে করপোরেট সেগমেন্টে আমাদের কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। আমরা চাই সরকার দেশীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষায় নীতিমালা করুক।”
তিনি আরও বলেন, “কম দামে সেবা দেওয়ার দিক থেকে দেশীয় আইএসপিগুলো প্রতিযোগিতায় সক্ষম। তবে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগকারীদের রক্ষায় পলিসি সাপোর্ট জরুরি।”

